Logo
Logo

আন্তর্জাতিক

গুয়ামে পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৪, ১২:২৭

গুয়ামে পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন

ছবি : সংগৃহীত

গুয়ামের ফাঁড়িতে নতুন পারমাণবিক সাবমেরিন ইউএসএস মিনেসোটা মোতায়েন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে নিজেদের শক্তি জোরদার করতে এই সর্বাধুনিক পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন মোতায়েন করল ওয়াশিংটন।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

২০২২ সাল থেকে হাওয়াইয়ে অবস্থান করা এই সাবমেরিনটি মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) গুয়ামে পৌঁছেছে। মার্কিন নৌবাহিনী নতুন এই সাবমেরিন মোতায়েনকে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নৌবাহিনীর জন্য কৌশলগত স্থাপন পরিকল্পনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

স্কোয়াড্রনের কমান্ডার নিল স্টেইনহেগেন বলেন, ‘ইউএসএস মিনেসোটা গুয়ামে স্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আমাদের অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াবে এবং প্রতিরোধ প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।’

বিশেষত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের সম্প্রসারণ প্রতিরোধের পাশাপাশি তাইওয়ান এবং দক্ষিণ চীন সাগরের মতো সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে এমন জায়গাগুলোতে ইউএসএস মিনেসোটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

দ্রুত-আক্রমণকারী ইউএসএস মিনেসোটা যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া শ্রেণির দশম সাবমেরিন। প্রথমবারের মতো এই শ্রেণির কোনো সাবমেরিন গুয়ামে আনা হল। ২০১৩ সালে তৈরি করা এই সাবমেরিন গুয়ামের সাবমেরিন স্কোয়াড্রন ১৫-এর অংশ হিসেবে কাজ করবে।

পুরোনো লস অ্যাঞ্জেলেস শ্রেণির সাবমেরিনগুলোকে প্রতিস্থাপন করতে ১৯৯০ এর দশকের গোড়ার দিকে ভার্জিনিয়া শ্রেণীর এই সাবমেরিনগুলো তৈরি করা হয়েছিল। প্রায় ১৪০ সদস্যের ক্রু দল নিয়ে ইউএসএস মিনেসোটা গোয়েন্দা, নজরদারি, অনুসন্ধান, হামলাসহ বিভিন্ন মিশন পরিচালনা করতে সক্ষম। এই সাবমেরিন কোনও আক্রমণ প্রতিরোধে দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম।

চীনের পূর্ব উপকূল থেকে মাত্র ২ হাজার ৯০০ কিলোমিটার (১ হাজার ৮০০ মাইল) দূরে অবস্থিত গুয়াম, আমেরিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক ঘাঁটি। চীনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই গুয়ামে তার সামরিক শক্তি আরও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। 

২০২১ সালে ২০২৬ সাল পর্যন্ত গুয়ামে সামরিক অবকাঠামো শক্তিশালী করার জন্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অবকাঠামোর মধ্যে গুয়ামের প্রথম মেরিন বেস এবং বিমানঘাঁটি উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গুয়াম এখন আমেরিকার এক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যেখানে পাঁচ হাজার নৌবাহিনী সদস্য বসবাস করবে এবং এটি একটি কৌশলগত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

গুয়ামে তার সাম্প্রতিক সফরে আমেরিকার নৌবাহিনীর কার্যনির্বাহী উপসচিব টম ম্যানসিনেলি গুয়ামের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘গুয়াম আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের অংশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আমাদের প্রচেষ্টা আঞ্চলিক আগ্রাসন প্রতিরোধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য পরিকল্পিত। যদি প্রতিরোধ ব্যর্থ হয় তবে আমরা গুয়াম থেকে লড়াই করব এবং আমরা গুয়ামের জন্য লড়াই করব।’

এসবি

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর