-6746fb2b3601a.jpg)
মঞ্চের নুরুলদীন কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় বড় চাচা নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন দর্শকদের কাছ থেকে। অভিনয়ের মাধ্যমে জয় করেছিলেন অসংখ্য মানুষের হৃদয়। বহুব্রীহি, আজ রবিবারের মতো নাটক ও নদীর নাম মধুমতী, লালসালু চলচ্চিত্রেও তিনি ছিলেন অনবদ্য। বলছি বাংলাদেশের বরেণ্য অভিনেতা আলী যাকেরের কথা। তিন বছর আগে আজকের দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী যাকেরের ভূমিকা অসংখ্য। টেলিভিশন ও মঞ্চ নাটকের পাশাপাশি দেশের বিজ্ঞাপন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। বাংলাদেশে টিকিট কেটে মঞ্চনাটক দেখার শুরু হয়েছিল গুণী এ অভিনেতার হাত ধরেই। তবে চাকরিতে যোগ দেওয়ার কারণে বেশ কিছুদিন ছিলেন মঞ্চ থেকে দূরে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেও অবদান রয়েছে অভিনেতা আলী যাকেরের।
১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার (বর্তমানে জেলা) রতনপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন আলী যাকের। তার বাবা মাহমুদ তাহের ও মা রেজিয়া তাহের। চার সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।
১৯৬০ সালে সেন্ট গ্রেগরিজ উচ্চবিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন আলী যাকের। পরবর্তীতে ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গেও যুক্ত হন।
ক্যারিয়ারে অসংখ্য আলোচিত মঞ্চনাটকের অভিনেতা ও নির্দেশক আলী যাকের। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- সৎ মানুষের খোঁজে, দেওয়ান গাজীর কিসসা, কোপেনিকের ক্যাপ্টেন, গ্যালিলিও, ম্যাকবেথ । টেলিভিশনের পর্দায় বিশেষ করে হুমায়ূন আহমেদের নাটকে আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা পান আলী যাকের। এর মধ্যে ‘আজ রবিবার, বহুব্রীহি অন্যতম।
মঞ্চ ও টেলিভিশন অভিনেত্রী সারা যাকেরকে বিয়ে করেন তিনি। এই তারকা দম্পতির দুই সন্তান, পুত্র অভিনেতা ইরেশ যাকের ও কন্যা শ্রেয়া সর্বজয়া।
আলী যাকের কেবল মঞ্চ নাটকের সফল অভিনেতা কিংবা সফল নির্দেশকই নন বরং মঞ্চ নাটকের অন্যতম সফল সংগঠক হিসেবেও পরিচিত তিনি। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। এর মধ্যে অন্যতম একুশে পদক, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদক, নরেণ বিশ্বাস পদক ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার।
এফএটি/এমএইচএস