আসামিকে মারধরের ৩ ঘটনা
সিলেট আদালতে নিরাপত্তা জোরদার, তদন্ত কমিটি

বাংলাদেশের প্রতিবেদক, সিলেট
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৪, ১৯:২০
-674b111471200.jpg)
পাঁচ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সিলেট আদালতে আসামিদের উপর হামলা ও মারধরের ৩টি ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ সিলেটে যুবদল কর্মী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্তসহ ৩ আসামিকে গত বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) আদালতে নেওয়ামাত্র তাদের উপর চড়াও হন নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় আসামিদের মারধর ও জুতাপেটা করা হয়। এরমধ্যে প্রধান অভিযুক্ত পরিবহন শ্রমিক নেতা রনু মিয়া মঈন গুরুতর হন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এর আগে ২৪ নভেম্বর সিলেট চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ লায়েককে কিলঘুষি ও লাথি মারেন কিছুসংখ্যক বিক্ষুব্ধ জনতা। লায়েকের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের আগে আন্দোলন চলাকালীন নাশকতা, হত্যাচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে আদালত এবং থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে।
তারও আগে ২৪ আগস্ট সিলেটের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতে তোলার সময় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ব্যাপক আক্রমণের শিকার হন। হামলায় গুরুতর জখম হন তিনি। ফেটে যায় তাঁর অণ্ডকোষ, শরীরে করা লাগে অস্ত্রোপচার। পরবর্তীতে তাকে বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এমনকি রাখতে হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)।
এ অবস্থায় সিলেট আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। এছাড়া একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সূত্র জানায়, আসামিদের আদালতে নেওয়ার সময় পুলিশি পাহারায় থাকা অবস্থায় তাদের উপর হামলার ঘটনাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন এরকম ঘটনা ঘটেছে এবং এর পেছনে কারা আছে সেসব খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এসএমপি। এ কমিটির প্রধান হচ্ছেন এসএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মু. মাসুদ রানা।
এসএমপি’র উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন- অতিরিক্ত দায়িত্ব) বি. এম. আশরাফ উল্যাহ তাহের বাংলাদেশের খবর-কে বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে আসামিদের উপর হামলার বিষয়গুলোতে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার পরও কেন এরকম ঘটনা ঘটেছে তা অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে নেওয়ার সময় আরও সর্তকর্তা অবলম্বন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মো. রেজাউল হক ডালিম/এমএইচএস