Logo
Logo

সারাদেশ

শেরপুরে পীরভক্ত ও এলাকাবাসীর মুখোমুখি অবস্থান

Icon

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৪, ১৮:১১

শেরপুরে পীরভক্ত ও এলাকাবাসীর মুখোমুখি অবস্থান

ছবি : বাংলাদেশের খবর

শেরপুরে মুর্শিদপুর দরবার শরীফের পীরের ভক্তরা দরবার শরীফ দখলে নেওয়ার চেষ্টার পর এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দরবার শরীফে যাওয়ার মূল সড়ক শেড়ীপাড়ায় বেরিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেয় এলাকাবাসী। 

উভয়পক্ষের মারমুখী আচরণের কারণে সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।

শেরপুর সদরের মুরশিদপুর দরবার শরীফে  হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালিয়ে করে দরবার গুড়িয়ে দেয় এলাকাবাসী। পরে শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সকাল থেকে পীরের ভক্তরা দরবার শরীফ দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। 

এ ঘটনার পর তরিকতপন্থীরা লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এতে প্রতিরোধের ঘোষণ দেয় এলাকাবাসী। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে এ লংমার্চ কর্মসূচি স্থগিত করে তরিকতপন্থীরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার পুরো এলাকা করডোন করে রেখেছে। 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এমনটাই জানালেন  ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবির পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছেন। আমরা সে লক্ষেই কাজ করছি। দেশের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা কাজ করি। এ এলাকার লোকজনের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, তারা আমাদেরকে কথা দিয়েছেন পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রাখতে ওনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন। 

উল্লেখ্য, একদল মানুষ গত ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার ভোরে শেরপুর সদর উপজেলার লছমনপুর মুরশিদপুর খাজা বদরুদ্দোজা হায়দার ওরফে দোজা পীরের দরবারে হামলা চালায়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়। 

আহতদের শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে দরবারবিরোধী হাফেজ উদ্দিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই সে ২৭ নভেম্বর সকালে মারা যান। 

এরপর থেকে সারা জেলায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নিহত হাফেজ উদ্দিনের নামাজে জানাজার আগে বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটা থেকে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয় দরবার শরীফে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই মুর্শিদপুর দরবার শরীফের কার্যক্রম বন্ধের হুমকি দিয়ে আসছিলেন সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের জামতলা এলাকার ফারাজিয়া আল আরাবিয়া কওমি মাদরাসার সুপার মো. তরিকুল ইসলামসহ স্থানীয়রা। এরই জেরে গত ২৬ নভেম্বর হামলার ঘটনা ঘটে। 

শাহরিয়ার শাকির/এমজে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর