Logo
Logo

ক্যাম্পাস

‘রাজনৈতিক আলাপ’ থেকেই বুটেক্স-পলিটেকনিক সংঘর্ষ

Icon

নয়ন কুমার বর্মন

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ১২:০৯

‘রাজনৈতিক আলাপ’ থেকেই বুটেক্স-পলিটেকনিক সংঘর্ষ

রাতভর সংঘর্ষের পর স্বাভাবিক হয়েছে বুটেক্স ও ঢাকা পলিটেকনিক এলাকা। রোববার (২৪ নভেম্বর) রাত ১০টার পর দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই গ্রুপের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

সংঘর্ষের সূত্রপাত বুটেক্সের শহীদ আজিজ হল থেকে। হলের স্টাফ মোহাম্মদ রোমানের দেওয়া তথ্যমতে, রোববার রাত ৯টার পর ঢাকা পলিটেকনিকের লতিফ হলের ৬জন শিক্ষার্থী তিনটি মোটরসাইকেলযোগে শহীদ আজিজ হলে প্রবেশ করে স্টাফদের বাসভবনের দিকে যান। 

এ সময় ঢাকা পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা রাজনীতি নিয়ে আলোচনা শুরু করলে বুটেক্সের শিক্ষার্থীরা তাদের নিষেধ করেন এবং বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে ঢাকা পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা নিজেদের সাবেক ছাত্রদল নেতা বলে পরিচয় দেন। এরপর হল থেকে বের হয়ে লতিফ ছাত্রাবাস থেকে ১৫-২০ জনকে নিয়ে আজিজ হলের গেটে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকেন ঢাকা পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা 

রাত ১০ টার পর ধীরে ধীরে দুই পক্ষের ইটপাটকেল ছোঁড়াছুঁড়ি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ উপস্থিত হয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করলে তারা প্রশাসনের কথা শোনেননি। কিছু সময় পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। 

এ সময় বুটেক্স-ঢাকা পলিটেকনিকসহ তেজগাঁও এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। রাত ২ টার পর ঢাকা পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা মসজিদের মাইকে বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান। পরে দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা আলোচনায় বসেন। আনুমানিক রাত ৩ টায় সংঘর্ষে থেমে যায়।

সোমবার (২৫ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। সড়কে ঠিকমতো যানবাহন চলাচল করছে। শহীদ আজিজ হল এবং লতিফ ছাত্রাবাস পাশাপাশি হওয়ায় এর সামনের সড়কে এখনো ইটপাটকেল পড়ে আছে। আজিজ হল ভবনের গ্লাস ভাঙা দেখা গেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়নি। 

সংঘর্ষের প্রত্যক্ষদর্শী আবির আহমেদ বলেন, ‘আমি আজিজ হলের সামনের ভবনে থাকি। রাতে হঠাৎ চিৎকার শুনে বের হয়ে দেখি, দুই গ্রুপের শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল ছোঁড়াছুঁড়ি করছে।’

প্রত্যক্ষদর্শী ইঞ্জিন মিস্ত্রি মো. জিসান বলেন, ‘রাত ১ টার পর এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন শিক্ষার্থীদের মারামারি, ইট-পাটকেল ছোঁড়াছুঁড়ি করতে দেখেছি। খুবই  ভয়াবহ অবস্থা ছিল। সব বন্ধ ছিল।’

রিকশাচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাত ১২ টা পর্যন্ত দূর থেকে দেখছি হলের গলিতে শিক্ষার্থী দৌড়াদৌড়ি করছে, ইট ছুঁড়ছে।’

এনকেবি/এমজে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর