Logo
Logo

ক্যাম্পাস

সোহরাওয়ার্দী কলেজ তছনছ, ক্ষতি ৩০ কোটি

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:৪৬

সোহরাওয়ার্দী কলেজ তছনছ, ক্ষতি ৩০ কোটি

ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজে বহিরাগতদের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গাড়ি, ক্লাসরুম, অফিস থেকে শুরু করে হামলা থেকে বাদ যায়নি কোনোকিছুই। 

রোববার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুরো কলেজের অবস্থা তছনছ হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় প্রশাসনিক কাগজপত্র, শিক্ষার্থীদের অরজিনাল প্রবেশপত্র ও এডমিট কার্ড লুট ও পুড়িয়ে ফেলা হয়।

এদিকে, হামলা-ভাঙচুরের এ ঘটনায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়। রোববার (২৪ নভেম্বর) রাতে তিনি এ তথ্য জানান। একইসঙ্গে আজ সোমবারের (২৫ নভেম্বর) মধ্যে এ সংকটের সমাধান করা জরুরি বলে জানান এ অধ্যক্ষ। 

অধ্যক্ষ কাকলী জানান, রোববার (২৪ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের প্রথম বর্ষ সম্মান সমাপনী পরীক্ষা চলছিল। সে সময় যাত্রাবাড়ী ডেমরা রোডে অবস্থিত ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ (ডিএমআরসি) এবং অন্যান্য কলেজের সহস্রাধিক ছাত্রের একটি দল প্রধান ফটক ভেঙে কলেজের ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মচারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমি বারবার পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনীকে ফোন দিয়ে সন্তোষজনক কোনো সাড়া পাইনি। বিষয়টি মাউশির ডিজি, মন্ত্রণালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো সহায়তা পাইনি।’

ওইদিন সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী লিখন ইসলাম অভিযোগ করেন, সোহরাওয়ার্দী কলেজে ১ম ও ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষা চলাকালীন বিক্ষোভকারীরা হামলা করে। এ সময় তারা পরীক্ষার্থীদের ডকুমেন্টস ও ফাইল ছিড়ে এবং পুড়িয়ে ফেলে। তাঁদের অরজিনাল ডকুমেন্টস ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দেওয়ার আল্টিমেটাম দেন এই শিক্ষার্থী।

কলেজটি অধ্যক্ষ কাকলী মুখোপাধ্যায় জানান, ‘ছাত্ররা কলেজ ভাঙচুর করে এবং কেন্দ্রে পরীক্ষারত পরীক্ষার্থীদেরকে আহত করে বের করে দেয়। তারা কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত শিক্ষকদের গাড়ি, মোটরসাইকেল, কলেজের মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে এবং কলেজের ১৭টি বিভাগের প্রতিটিতে হামলা চালায়। সব বিভাগ ও শ্রেণিকক্ষের আসবাবপত্র, ফ্যান, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার এবং অফিস ও প্রতিটি বিভাগের আলমারি ভেঙে নগদ অর্থ লুট করে। 

তিনি আরও জানান, প্রতিটি বিভাগের বুকসেলফ, অফিসে রক্ষিত শিক্ষার্থীদের মার্কশিট, সনদপত্র, ভর্তি ও ফরম পূরণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং বিভাগের বিভিন্ন বই-পুস্তক ও অন্যান্য মালামাল তছনছ করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। সে সময় ডিএমআরসির অধ্যক্ষকে বারবার বিষয়টি অবগত করার জন্য ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।

অধ্যক্ষ কাকলী বলেন, ‘আগে থেকে অবগত থাকা সত্ত্বেও তিনি (ডিএমআরসির অধ্যক্ষ) একবারের জন্যও আমাদেরকে নিজে থেকে অথবা তার কোনো প্রতিনিধিকে দিয়ে খোঁজ নেওয়ারও প্রয়োজন বোধ করেননি। সোহরাওয়ার্দী কলেজের শান্তিপ্রিয় শিক্ষার্থীরা অঙ্গীকারবদ্ধ যে, তারা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালাবে না। যদি কোনো সন্ত্রাসী এই সুযোগের অপব্যবহার করে তবে এর জন্য সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রশাসন, শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ এবং ছাত্র-ছাত্রীরা দায়ী থাকবে না।’

এ সময় তিনি ডিএমআরসির অধ্যক্ষ এবং প্রশাসনের কাছ থেকে কলেজের এই অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসলীলার ক্ষতিপূরণ ও দায়ী ছাত্রদের চিহ্নিত করে বিচার ও জবাবদিহিতার দাবি জানান। সেই সঙ্গে কলেজের শিক্ষক, ছাত্র প্রতিনিধি, পুলিশের ডিসি (লালবাগ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ডিএমআরসির অধ্যক্ষ প্রতিনিধি নিয়ে একটি জরুরি আলোচনায় বসার দাবি জানান।

হামলাকারীরা উল্লাসে মেতেছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কলেজের এক শিক্ষকের গাড়ি ভেঙে তারা তাণ্ডব উল্লাসে মেতেছিল। এটি অশোভনীয় এবং মেনে নেওয়ার মতো নয়। কলেজ রক্ষা করতে না পারায় আমার যদি কোনো ব্যর্থতা থাকে, সেটি সম্পূর্ণ আমার ঘাড়ে নিচ্ছি। তার জন্য যেকোনো ধরনের শাস্তি আমি মাথা পেতে নেব।’

তিনি বলেন, ‘এটি অনেক পুরোনো একটি কলেজ। যেখানে অসংখ্য আসবাবপত্র এবং মূল্যবান দলিলাদি ছিল। এই মুহূর্তে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আনুমানিক ৩০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।’

এদিকে, বোরবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাতটায় সংবাদ সম্মেলন করে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন, লিখন ইসলাম।

এ সময় কলেজে হামলা, ভাঙচুর ও প্রশাসনিক কাগজপত্র লুটসহ ক্ষয়ক্ষতির ব্যাখ্যা চেয়েছেন তারা। লুট হওয়া প্রশাসনিক কাগজপত্র, শিক্ষার্থীদের অরজিনাল প্রবেশপত্র ও এডমিট কার্ড ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। 

সংবাদ সম্মেলনে মাহাবুর রহমান মোল্লা কলেজসহ বাকি ১৯ কলেজের অধ্যক্ষ এবং সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ, অফিসার্স কাউন্সিলকে সমাধানের রোডম্যাপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। রোববার রাতের মধ্যে সমাধান না দিলে আজ সোমবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ১০টায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার কথাও জানানো হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে ডা. মাহাবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থী অভিজিৎ(১৮)-এর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল ঘেরাও করে শিক্ষার্থীরা। রোববার (২৪ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে সোহরাওয়ার্দী ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ঘেরাও করতে আসা শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের এক পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে।

ডিআর/এমজে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর